আন্তর্জাতিক
ইরানে নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ: নিহত অন্তত ৬৫

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিভিন্ন শহরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) এসব তথ্য জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের অভাবের প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন দেশটির অন্তত ১০০টির বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হলেও বিক্ষোভে এখন রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী স্লোগান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা সীমিত করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্ল্যাকআউট আন্দোলন থামানোর বদলে আরও মানুষকে রাস্তায় নামতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তেহরানে রাতের আঁধারে হাজারো মানুষ সড়কে নেমে আগুন জ্বালিয়ে ‘স্বাধীনতা’ স্লোগান দিচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হুমকির মধ্যেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, সরকারি সম্পদ ধ্বংস বা সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে; এমনকি ‘মোহারেবেহ’ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও প্রয়োগ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষকে সহিংসতা না চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিদেশি শক্তির উসকানির অভিযোগ তোলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।







