ক্যারিয়ার
গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের প্রযুক্তিবিদ চাঁদপুরের রাবেয়া

সংগৃহীত
দেশে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় শিক্ষাজীবন শেষ করে ইউরোপে নগর জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন রাবেয়া বেগম। বর্তমানে তিনি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের টেকসই পরিবহন বিভাগে টেকনিশিয়ান (প্রযুক্তিবিদ) হিসেবে কর্মরত। চাঁদপুরের এই তরুণী ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরীর পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে ভূমিকা রাখছেন।
গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নগরবাসীর ভ্রমণসংক্রান্ত আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছিল। স্থানীয় বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে কাউন্সিলের টেকসই পরিবহন বিভাগের গ্রুপ ম্যানেজার ঘোষণা দেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ১০টি কার্যকর প্রস্তাব চূড়ান্ত করে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে রাবেয়া বেগমকে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাবেয়া স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য ও নগরবাসীর কল্যাণে উপযোগী ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের সাইকেল চালানো শেখানো, সাইকেল মেরামত প্রশিক্ষণ, অনুপযুক্ত সাইকেল সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা ইত্যাদি। সিটি কাউন্সিল এসব প্রকল্প অনুমোদন করে এবং বাস্তবায়নের নেতৃত্বও দেওয়া হয় রাবেয়াকে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর পুরোদমে কাজ শুরু করেন তিনি। এর কয়েক মাস আগেই রাবেয়া গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলে টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন।
চাঁদপুরের একটি বিদ্যুৎবিহীন গ্রামে বেড়ে ওঠা রাবেয়া গ্রামের স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। পরে ঢাকার একটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পরিবেশবিজ্ঞানে ভর্তি হন। পূর্ণ বৃত্তিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে কয়েক বছর একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি।
উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপে নির্বাচিত হয়ে ইউরোপে যান রাবেয়া। এর আওতায় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি, ফিনল্যান্ডের ল্যাব ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স এবং স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব হুয়েলভা থেকে ‘আরবান ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরই তিনি গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলে যোগ দেন।
রাবেয়ার প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে গ্লাসগো নগরবাসীর ভ্রমণসংক্রান্ত আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিটি কাউন্সিলের লক্ষ্য হাঁটা ও সাইক্লিং কার্যক্রম বাড়ানো, যাতে বায়ুদূষণ, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে রাবেয়ার প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ ছাড়া নগরবাসীর জন্য নিরাপদ সাইকেল স্টোরেজ ব্যবস্থা, সাইকেল চলাচলের উপযোগী রাস্তা চিহ্নিত করে জিআইএসভিত্তিক মানচিত্র তৈরি—এসব উদ্যোগও রাবেয়ার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।






