মতামত ও বিশ্লেষণ
নতুন বছরের স্বপ্ন ও পরিকল্পনা: ডিআইইউ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ (দোসরা পর্ব)

সংগৃহীত
নতুন বছর হোক শান্তি, সুস্থতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক
বছরের শুরু মানেই আমার কাছে নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। একটি বছর শেষ হয়ে আরেকটি বছরের সূচনা আমাদের আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয়—আমরা কী পেলাম, কী হারালাম এবং সামনে কীভাবে আরও ভালো করা যায়। এই নতুন বছরে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এবং একজন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রত্যাশাগুলো কিছু মৌলিক বিষয়ে কেন্দ্রীভূত।
নতুন বছরে সর্বপ্রথম আমি কামনা করি—দেশের প্রতিটি মানুষ যেন সুস্থ থাকে, মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী থাকে। সুস্থতা ছাড়া কোনো সাফল্যই টেকসই হয় না। পাশাপাশি প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে, নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ করে এগিয়ে যেতে পারে—এটাই নতুন বছরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হওয়া উচিত।
একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বছরে আমি চাই দেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় থাকুক। মতভিন্নতা থাকলেও তা যেন সহিংসতা বা অস্থিরতার রূপ না নেয়। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
একজন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আমাকে বিশেষভাবে ভাবায়। নতুন বছরে আমি আশা করি—দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। টেকসই উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং সঠিক নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারবে—এটাই আমার বিশ্বাস।
সব মিলিয়ে নতুন বছর হোক শান্তি, সুস্থতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে—এই প্রত্যাশাই নতুন বছরের শুরুতে আমার আন্তরিক কামনা।
আয়েশা সিদ্দিকা উর্মি
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
নিরাপদ, সুস্থ, স্বাভাবিক জীবন ও দুর্নীতি মুক্ত দেশ চাই
আমরা সবাই একটি নিরাপদ জীবন চাই। আর নিরাপদ জীবন মানেই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন।
আমরা চাই দেশটি দুর্নীতি থেকে মুক্ত হোক এবং একই সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠুক। একটি দেশ সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে যেমন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তেমনি জনগণের একনিষ্ঠ ও সচেতন ভূমিকারও প্রয়োজন রয়েছে। আমরা পরিবর্তিত হলে দেশও পরিবর্তিত হবে—আসন্ন নতুন বছরে এই অঙ্গীকারই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
মারামারি, খুনাখুনি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি নয়—শান্তিপূর্ণভাবে দেশ গঠনের প্রয়াসে নির্বিঘ্নে এগিয়ে আসাই হোক আমাদের লক্ষ্য।
তানজিনা আক্তার তানহা
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
নতুন পরিকল্পনা ও নতুন প্রত্যয়ে আত্মউন্নয়নে মনোনিবেশ করতে চাই
জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে গেল, শুরু হলো নতুন বছর—২০২৬ সাল। আমি মহান রব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করি, আমার, আমার পরিবার এবং আমার দেশের সকল মানুষের নতুন বছরটি যেন ভালোভাবে ও নিরাপদে কাটে। তিনি যেন আমাদের দেশকে সংঘাত ও রক্তপাত থেকে মুক্ত রাখেন এবং দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতা দান করেন।
নতুন বছরে আমরা যেন নতুন পরিকল্পনা ও নতুন প্রত্যয়ে আত্মউন্নয়নে মনোনিবেশ করতে পারি। কীভাবে নিজের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়, কীভাবে খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করে ভালো অভ্যাস গড়ে তুলে নিজেকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়—সে চেষ্টাই যেন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হয়।
পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আগামী দিনে আরও সুন্দর সময় কাটানোর প্রত্যাশা করি, যা আমাদের মানসিক প্রশান্তি ও এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগাবে।
আমি চাই আমাদের দেশের সামাজিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হোক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হোক এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হোক। ২০২৫ সালে আমরা অনেক কিছু ত্যাগ করেছি এবং অনেক কিছু অর্জনও করেছি। ২০২৬ সালে যেন সেই অর্জনগুলো ধরে রেখে আমরা আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারি, আর আমাদের সব ত্যাগ যেন সার্থক হয়।
দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করা, দেশের স্বার্থে কাজ করা এবং দেশকে ভালোবাসা—এগুলো আমাদের প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। এই প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার নিয়েই আমি নতুন বছর শুরু করতে চাই।
আয়শা সিদ্দিকা তাসমিয়া
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি






